জীববিজ্ঞানের ভাষায় 'জীবন্ত জীবাশ্ম' বলতে এমন প্রাণীদের বোঝায়, যারা কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে এবং যাদের বিবর্তনীয় পরিবর্তন খুব নগণ্য। নটারপটিডি (Notopteridae) পরিবারের সদস্য চিতল মাছকে অনেক সময় এই বিশেষ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদের শারীরিক গঠন এবং আদিম বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাচীন মাছের সাথে অনেক সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা এদের এই তকমা এনে দিয়েছে।
চিতল মাছের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এদের শরীর ও আঁশ। এদের পিঠের দিকটা ধনুকের মতো বাঁকানো, যা দেখতে অনেকটা খঞ্জরের মতো, এজন্যই অনেকে একে 'নাইফ ফিশ' বলে। এদের সাঁতার কাটার ধরণ এবং ফুলকার গঠনের মধ্যে আদিম সামুদ্রিক মাছের ছাপ স্পষ্ট। যদিও এদের সম্পূর্ণভাবে ডাইনোসর যুগের জীবাশ্মের সাথে তুলনা করা কিছুটা বিতর্কিত, তবে বর্তমান পৃথিবীর অন্যান্য আধুনিক মাছের তুলনায় এদের বংশপরম্পরা ও জৈবিক গঠন অত্যন্ত প্রাচীন ও স্থিতিশীল। পরিবেশগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই এরা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আজ পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছে।
সূত্র: প্রথম আলো





