মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার এবং এর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেশের মাদক পরিস্থিতি, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ইয়াবার ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী উদ্দীপক মাদক। নিয়মিত ব্যবহারে এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আচরণগত পরিবর্তন এবং আসক্তির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সংকট পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়—প্রয়োজন সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত কর্মসূচি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা বাড়ানো গেলে তরুণদের মাদকমুখী হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক অভিযান, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং চিকিৎসা-পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই তিনটি ক্ষেত্রেই আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোতে সাধারণত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। তবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিনির্ধারণ করা হলে ইয়াবা আসক্তি প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
নাগরিক বার্তা ২৪-এর মন্তব্য: মাদকাসক্তি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় যেকোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বক্তব্য যুক্ত করা জরুরি।





